আলী রেজা রাজু,সাভার :
ঢাকার সাভারে চারজন বিএনপি ও যুবদল নেতাকে গুম করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখার পর মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে অবশেষে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করেছিল পুলিশ। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের আগস্টের উত্তাল আন্দোলনের সময় তাদেরকে প্রথমে “আয়না ঘর” নামে পরিচিত অন্ধকার নির্যাতনকক্ষে বন্দি রাখা হয়।
গুম হওয়া চারজন হলেন—সাভার থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সাভার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদল নেতা সুরুজ্জামান, কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম এবং শহীদুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক সুজন আহমেদ।
শহীদুল ইসলাম জানান, প্রথম ৩ দিন তাদেরকে আয়না ঘরে হাত-পা ও চোখ বেঁধে রাখা হয়। সেখানে কোনো খাট বা চৌকি ছিল না, শুধু বড় ফ্যানের শব্দ আর দূরে মানুষের আর্তনাদ শোনা যেত। খাবার হিসেবে দেওয়া হতো শুধু শুকনো রুটি বা একটি কলা।
টয়লেটে নেওয়ার সময়ও হাত রশি দিয়ে বাঁধা থাকত।
মোমিনুল ইসলাম বলেন, প্রথম কয়েকদিন নির্যাতন শেষে তাদের সাভারের ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানেও ভয়াবহ নির্যাতন চলে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করলে তাদের দফায় দফায় পেটানো হতো।
যুবদল নেতা সুরুজ্জামান বলেন, “আমাকে এত মারধর করা হয়েছিল যে একাধিকবার অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়।”
আটকদের পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাদের মুক্তির নামে পুলিশ ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক কিস্তিতে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। শহীদুল ইসলামের স্ত্রী সুরাইয়া হোসেন জানান, “আমার স্বামীকে পুলিশ অস্বীকার করলেও টাকার বিনিময়ে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। থানায় গিয়ে বারবার ধরনা দিয়েছি, কিন্তু উল্টো অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছে।”
৬ দিনের বন্দিদশার পর পুলিশ তাদেরকে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যায় এবং একটি ছোট পাম্পে পোশাক পরিবর্তন করিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি, মোবাশ্বেরা চৌধুরী, সাভার সার্কেলের এএসপি শাহিদুল ইসলাম, উত্তর ডিবির ওসি রিয়াজ উদ্দিন বিপ্লব, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার পরিদর্শক মিজানুর রহমান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান দাবী করেছিলেন—আটকরা ভয়ংকর নাশকতাকারী, তারা সাভার-আশুলিয়ায় অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এমনকি গাড়িচালক সুজনকেও তিনি বিএনপির সক্রিয় সদস্য বলে আখ্যা দেন।
তবে ভুক্তভোগীরা বলেন, পুলিশ সুপারের বক্তব্য ছিল “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক”। শহীদুল ইসলামের ভাষায়, “আমাদেরকে নাটক সাজিয়ে অপরাধী বানানো হয়েছে।”
ভুক্তভোগী নেতারা ও তাদের পরিবার প্রশাসনের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাভারে রাজনৈতিক কর্মীদের গুম, নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ।


















