মোঃ শাহজালাল (ফারুক)
ঢাকার ব্যস্ততম ও জনবহুল এলাকা শনির আখড়া, রায়েরবাগ ও মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউ (মাতুয়াইল মেডিকেল) এলাকায় নির্মিত ফুট ওভারব্রিজ গুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল পথচারীদের নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য! বর্তমানে এসব ওভারব্রীজ ও ওভারব্রিজের প্ল্যাটফর্ম গুলো চলে গেছে হকারদের দখলে যা জনসাধারণের চলা-চলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করছে।প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ ও অসুস্থ রুগী সহ হাজারো মানুষ এসব ওভারব্রীজ দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।ওভারব্রিজ গুলো ব্যবহার করতে গেলে দেখা যায়,প্রায় পুরো ব্রীজ ও ব্রীজের প্লাটফর্ম জুড়েই বসানো হয়েছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান।কেউ বিক্রি করছে জামা-কাপড়, কেউবা মোবাইল এক্সেসরিজ,ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, মাছ,শাকসবজি, ফলমূল ও না নান রকম গৃহস্থালী পণ্য,তার উপর ভিক্ষুকের দখলদারিত্ব তো আছেই,ফলে সংকুচিত হয়ে আসছে চলার পথ এবং বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের স্বাভাবিক গতি।বিশেষ করে মাতুয়াইল শিশু মৃত সাস্থ ইনস্টিটিউট (যা মাতুয়াইল মেডিকেল নামে সর্বাধিক পরিচিত) হাসপাতালের সামনে থাকা ওভারব্রিজ টি শিশু-কিশোর ও গর্ববতী মা সহ রুগীর স্বজনদের পারাপারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।অথচ সেখানে গিয়ে দেখা যায় হকারদের দোকান সাজিয়ে বসার কারণে সাধারণ জনগণ এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রুগীদের রাস্তা পারা-পারেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এমনকি হুইল চেয়ার ও স্ট্রেচারে করে আনা মুমূর্ষু রোগীদের কে পার করতে গেলেও হকারদের বিনয়ের সাথে সরে যাওয়ার অনুরোধ করতে হয় তাতেও হকাররা কর্নপাত করেন না।এ অবস্থায় অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওভার ব্রীজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হন যার ফলে এ সমস্ত এলাকায় প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা।স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই এই অবৈধ দখলদারিত্ব চলছে।প্রশ্ন হলো কাদের ইশারায় চলছে এই দখলদারিত্বের মহোৎসব? সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না।মাঝে মাঝে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ হতে হালকা-পাতলা অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়! হকাররাও জানেন কিছুক্ষণ পরেই তারা আবার ফিরে আসতে পারবেন।হাসপাতালে আসা রুগী,রুগীর স্বজন সহ ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ! ওভারব্রিজ গুলো যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের কাজেই না আসে তবে, সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে করে নির্মাণ করা এই অবকাঠামো গুলো নির্মাণের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায় এবং এই অবস্থায় সড়ক নিরাপত্তার পরিবর্তে রাস্তা পারা-পারে মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়ায়।তাই জনস্বার্থে নির্মিত ওভারব্রিজ ও ব্রিজের প্ল্যাটফর্ম গুলো হকারমুক্ত করার জন্য আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জোর দবী জানাচ্ছি।



















