

মো: মিনহাজুল ইসলাম সীমান্ত, স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়েশা খাতুনকে নির্মমভাবে হত্যার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার রহস্য উদঘাটন কিংবা মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা ও তদন্তের ধীরগতির প্রতিবাদে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) ফুঁসে উঠেছে চিলমারীর সর্বস্তরের মানুষ। সকাল থেকেই উপজেলার রাজপথ প্রতিবাদী জনতার মিছিলে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ এবং থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি চিলমারী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল নিয়ে চিলমারী মডেল থানার সামনে গিয়ে মূল ফটক অবরোধ করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এসময় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়লে এক চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা এসময় "আয়েশার খুনিদের ফাঁসি চাই", "পুলিশ কেন চুপ?" এবং "বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না" সহ বিভিন্ন স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রধান ফটকে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান। তিনি উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি বলেন, আয়েশা হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং প্রশাসন একে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছে। তিনি আশ্বাস প্রদান করেন যে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তাঁর পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের জোরালো প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা পর জনতা অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
এদিকে ঘটনার তদন্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করছে। তিনি দাবি করেন, তদন্ত কার্যক্রম কোনোভাবেই থেমে নেই বরং নেপথ্যের কারণ এবং প্রকৃত আসামিদের নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পুলিশের একাধিক টিম দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ আগে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেনের দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তান আয়েশা খাতুন হঠাৎ নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পরেই বাড়ির পাশের একটি নির্জন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের ধরণ দেখে পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু দীর্ঘ সাতদিন পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনকভাবে এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারা বা খুনের মোটিভ উদ্ধার করতে না পারায় স্থানীয় জনমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অপরাধীরা ধরা না পড়লে তারা আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন।
৮০ রুপায়ন টাওয়ার, লেভেল -৩ (লিফটের 3), কাকরাইল, ঢাকা 1000, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শরিফুল আলম, সহ প্রকাশক: মোঃ ফারুক হোসেন । মোবাইল: 01604 872 968
Millennium NEWS BD