ঢাকা আজ সোমবার, ১লা ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজ ১লা ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অনুসন্ধান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আর্টিকেল
  8. কবিতা
  9. কৃষি
  10. খেলাধুলা
  11. গণমাধ্যম
  12. গল্প
  13. জাতীয়
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. বিনোদন

নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক দুর্যোগে দেশ

প্রতিবেদক
মিলেনিয়াম নিউজ বিডি
নভেম্বর ১, ২০২৫ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক; দেশের অর্থনৈতিক দুর্যোগ যেন কাটছেই না। বিনিয়োগের কোনো সুখবর নেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক দুর্যোগে পড়তে যাচ্ছে দেশ। বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে গত প্রায় ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই দুর্দশায় দেশের আর্থিক খাত। দুর্দশার মাত্রা কতটা তা বোঝাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়ে বলেছিলেন, দেশের আর্থিক খাতের অবস্থা পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ। সেই দুর্দশা থেকে টেনে তুলতে যে রকম পরিকল্পনা দরকার ছিল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তা এখনো করতে পারেননি। যে কারণে দেশের অর্থনীতি সংকটময় পরিস্থিতি পার করছে। কোনোভাবেই যেন এতে স্বস্তি ফেরানো যাচ্ছে না।বিনিয়োগে স্থবিরতা, বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার ও রফতানি-রাজস্বে মন্দা অর্থনীতিকে ভোগাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে; অথচ প্রত্যাশিত নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক দুর্যোগ পড়ে যাচ্ছে দেশ। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে কৃষক-শ্রমিক ভাল নেই। এমনকি উচ্চ শিক্ষার জন্য যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রতিযোগিতা হতো; সেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্ধেক সিট খালি। আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে ভর্তি হতে পারছেন না। 


বিদেশিরা জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত বিনিয়োগ করবেন না। অথচ জাতীয় নির্বাচন ঠেকাতে গণভোট ইস্যু সামনে আনা হয়েছে। এতে করে রাজনৈতিক আস্থাহীনতা অর্থনীতির গতিকে আরো মন্থর করে দিয়েছে। খোদ সরকারের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে অর্থনীতির নানা দুর্বলতার দিক। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) অক্টোবর মাসের ইকোনমিক আপডেট বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে গেছে, ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা নতুন উদ্যোগ নিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সরকার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিলেও মূল সমস্যা এখন বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়া। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়েছে। যে কারণে নির্বাচনের আগে ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণের পরবর্তী তথা ষষ্ঠ কিস্তি পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই অর্থ ছাড় হবে। কারণ, দাতা সংস্থাটি সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নতুন রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই এ অর্থ ছাড় করতে চায়। ষষ্ঠ কিস্তি বাবদ আইএমএফ’র কাছ থেকে প্রায় ৮০ কোটি ডলার অর্থ পাওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে এ অর্থ ছাড় করার কথা ছিল। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে। অবশ্য গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন অনেক আগেই বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ যত দীর্ঘ হবে, অর্থনীতির ক্ষতি তত বাড়বে। তিনি বলেন, একটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতি ও রাজনীতি পাশাপাশি চলে, একে অপরের পরিপূরক। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুর্বল শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনীতি চলতে পারে না। সঠিক রাজনীতি ছাড়া সঠিক অর্থনীতি হয় না। স্বল্প মেয়াদি সরকার দীর্ঘায়িত হওয়া অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়। তাই আর্থিকখাতের শৃৃঙ্খলার জন্য দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দরকার।


এদিকে বিনিয়োগ খরা কোনভাবেই কাটছে না। সেটা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সব ক্ষেত্রেই। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। সুদের হার বেড়ে অনেক দিন থেকেই ১৩ থেকে ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে দেশে নতুন কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ বা ব্যবসা বড় করার আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয় দশমিক ৩৫ শতাংশে। গত ১০ বছরের মধ্যে এটি অন্যতম সর্বনিম্ন হার। এর আগে এই প্রবৃদ্ধি গড়ে ছিল ১২ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি না বাড়লে কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন, রফতানি-সবখানেই প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো বর্তমানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকারি অর্থায়নে। কারণ, সরকার উচ্চ সুদে বড় অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এছাড়া দেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগে ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নতুন বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৬২ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি ছাড়া এ ধারা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তবে মুনাফা পুনঃবিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে একই সময়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিদেশিরা নতুন বিনিয়োগ করেছে আট কোটি ১০ লাখ ডলার। যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ২১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে-বিদেশি কোম্পানিগুলোর নতুন বিনিয়োগ কমেছে ১৩ কোটি ডলার বা ৬২ শতাংশ। আগের প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে নতুন বিনিয়োগের পরিমাণও। জুলাই-এপ্রিল প্রান্তিকে আট কোটি ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ হলেও জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিনিয়োগ এসেছিল ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। বিনিয়োগ কমেছে ৬৯ শতাংশ। একই সময়ে কমেছে আন্তঃকোম্পানি ঋণের পরিমাণও। এপ্রিল-জুলাই প্রান্তিকে ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি ৩০ লাখ ডলার। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ছিল নয় কোটি ২০ লাখ ডলার। বিনিয়োগ এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ কমলেও পুনঃবিনিয়োগ বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই-এপ্রিলে কোম্পানিগুলো ২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার পুনঃবিনিয়োগ করেছে। আগের বছরের একই সময়ে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল তিন কোটি ৩০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে পুনঃবিনিয়োগ বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। পুনঃবিনিয়োগ বাড়ায় বেড়েছে সার্বিক সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই। তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে নিট এফডিআই এসেছে ৩০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এফডিআই ছিল ২৭ কোটি ডলার। বেড়েছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অবশ্য বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিশেষ কোন পদক্ষেপও চোখে পড়েনি। এমনকি দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস পোশাকখাতে গত এক বছরে দেশে ২৫৮টি রফতানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। কয়েক লাখ শ্রমিক কর্ম হারিয়েছেন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যা তুলে ধরতে চার মাস ধরে সময় চেয়েও সাক্ষাৎ পাননি বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। অথচ পোশাকখাতে বাংলাদেশ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে চীন ও ভারতের উপর আরোপিত অতি শুল্কের কারনে যে সুবিধা পাচ্ছিল তা ইতোমধ্যে কমে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে এক বছরের জন্য বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। এতে চীনের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৭ শতাংশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন-মার্কিন বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক, রফতানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তাও ধীরে ধীরে ফিঁকে হয়ে যাচ্ছে। কারণ ইতোমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ভারতের সঙ্গে শিগগরিই একটি বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। একই সঙ্গে শুল্ক উত্তেজনার মধ্যেই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রফতানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং ২৫ শতাংশ জরিমানা রয়েছে।

ফলস্বরূপ, ভারতীয় পণ্যগুলিকে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সম্মুখীন হতে হবে। বাণিজ্য চুক্তির পরে এই অনুপাত প্রায় ১৫ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া বর্তমান ট্রাম্পের বাড়তি শুল্কের মধ্যেই ভারতের টেক্সটাইলখাত খুব ভালো অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দেশে সুদের হার বেশি সেই দেশে বিনিয়োগ হয়। বাংলাদেশের সুদহার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশের চেয়ে বেশি হলেও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারছে না। সুতরাং সুদহার নয়, মূল কারণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করা কাজ করছে। কারণ যে দেশে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি সেই দেশের বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশিত মুনাফা পায় না বলেই বিনিয়োগ করতে আর আগ্রহী হয় না।বিশ্লেষকরা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি কেবল শূন্য দশমিক ১ শতাংশে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে, যা করোনার সময়েরও কম। কয়েক বছর আগে মহামারীর কারণে শিল্প ও অফিস থমকে গিয়েছিল, সেই সময় বিনিয়োগ বৃদ্ধি হয়েছিল মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে, কর্মযজ্ঞ থেমে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি না থাকলেও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি আরো কম হয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম ও জ্বালানি সংকট উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহ কমাচ্ছে। 


ঢাকার পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একটি পাদুকা কারখানার একটি ইউনিট সম্প্রতি বন্ধ ঘোষণা করেছে। উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, গত দেড় বছর ধরে পুরো ক্ষমতায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়নি। আর্থিক ক্ষতি বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে দেশের বড় কিছু বস্ত্র কারখানা এবং অন্যান্য উৎপাদন খাতের শিল্প-কারখানাতেও। নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ এই মুহূর্তে অনুকূল নয়।বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ। ২০১৮-১৯ এ কমে আট দশমিক ছয় শতাংশে নেমে আসে। কোভিডের কারণে ২০১৯-২০ এ মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড হয়। তবে পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে পুনরায় কিছু উন্নতি দেখা দেয়-২০২০-২১ এ সাত দশমিক আট এবং ২০২১-২২ এ ১১ দশমিক আট শতাংশ। কিন্তু ২০২২-২৩ এ তা ধস খায়, দুই দশমিক নয় শতাংশে নেমে আসে। এরপর ২০২৩-২৪ এ চার দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি হয়। আর সর্বশেষ ২০২৪-২৫ এ কেবল শূন্য দশমিক এক শতাংশে সীমাবদ্ধ। 


পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প ও পরিষেবা খাতে মন্দার কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধি তিন দশমিক ৬৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ। বিনিয়োগ স্থবিরতা, রফতানির ধীরগতি ও ঋণ প্রবাহের ঘাটতি এ অবস্থার মূল কারণ। এদিকে দেশের বস্ত্র খাতের বিনিয়োগ বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আগে অনেক কারখানায় তিন শিফটে উৎপাদন হতো, এখন তা দুই বা এক শিফটে সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ২০-২২টি বড় কারখানা এই পরিস্থিতিতে রয়েছে। সিমেন্ট খাতেও অবস্থার অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক জানান, কারখানাগুলো ৩০-৪০ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে। নতুন প্রজেক্ট নেই, আবাসন খাত স্থবির। নির্বাচনের মাধ্যমে স্থবিরতা কাটবে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, রড-সিমেন্ট কারখানাগুলো ৫০-৫৫ শতাংশের বেশি সক্ষমতায় চলছে না। বিদ্যুৎ, চাহিদার অভাব, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে অনেক কারখানা বন্ধ। শিল্পীরা সম্প্রসারণের কথা ভাবছেও না। সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। নির্বাচন ছাড়া এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।


বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং মূলধন সংগ্রহও কমেছে। চলতি বছরের আগস্টে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে গেছে। ব্যাংক ঋণের সুদহার এখন প্রায় ১৬ শতাংশ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বেশিরভাগ ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে না। উদ্যোক্তাও নিচ্ছে না। তাই ঋণ স্থিতি ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে। নতুন বিনিয়োগ না আসলে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা হ্রাস পাবে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল ইনকিলাবকে বলেন, দীর্ঘদিন নো ম্যানস ল্যান্ডে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির। বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ব্যবসায়ীরা। দ্রুত নির্বাচনই ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে, অস্থিরতা দূর করবে, স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে।বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে আছে। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে সামনের অর্থবছরে বিনিয়োগের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা আছে। জ্বালানি সরবরাহ ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলে উন্নতি সম্ভব।

কমেন্ট করুন

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত

সিরাজগঞ্জে নিহত ছাত্রদল নেতা সাম্যের মরদেহের অপেক্ষায় শোকার্ত স্বজনরা

সিরাজগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় অধ্যক্ষসহ আ’লীগের ৮ নেতা কারাগারে

শেরপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার

পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখায় গোলাগুলিতে এক ভারতীয় সেনা নিহত

যমুনা সেতু থেকে রেল ট্র্যাক অপসারণ ও লেন প্রশস্তের প্রস্তাব

পটিয়ায় সড়ক পরিবহন আইনে ১৪হাজার টাকা জরিমানা

গাইবান্ধা-৫ আসনে এনসিপির মনোনয়ন নিলেন তরুণ নেতা জাহিদ হাসান জীবন

মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ কচু পাতার পানি না-বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা ১৮টি কিশোরী পরিবারকে দ্রুত আয়-বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান

ভারত যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণরেখায় হামলা চালাতে পারে: খাজা আসিফ