

নোমাইনুল ইসলাম,
বাঘাইছড়ি(রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি
দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় চোখে পড়ার মতোভাবে বাড়ছে দৃষ্টিনন্দন, বহুতল, মার্বেলশোভিত আলিশান বাড়ি–ঘর নির্মাণের প্রবণতা। এ ধারায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতেও বহু ব্যক্তি কোটি টাকার স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তবে তাদের প্রকৃত আয়–ব্যয়ের উৎস অজানা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানামুখী প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এদের অধিকাংশই না সরকারি চাকরিজীবী, না প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, না স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী। তবুও তাদের স্বল্প আয়ের সঙ্গে সম্পদের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি মিলে না—যা স্বাভাবিক ভাবেই সন্দেহ সৃষ্টি করছে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের এলাকায় মাত্র কয়েক বছরে দুইজন ব্যক্তি আলিশান বাড়ি তুলেছেন। কিন্তু তাদের আয় ছিল সীমিত। এসব দেখেও প্রশাসন কোনো তদন্ত করে না—এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।”
বিশেষজ্ঞদের প্রাপ্ত তথ্যমতে: আয়–ব্যয়ের উৎস যাচাই আধুনিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো দেশে কেউ হঠাৎ করে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করলে তার আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখা আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশেও এ ধরনের নজরদারি জোরদার করা হলে অবৈধ উপার্জনের প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বড় শহরের তুলনায় মফস্বল এলাকায় নজরদারির সুযোগ কম থাকায় অবৈধ অর্থ সঞ্চয় বা দুর্নীতির হিসাব ধরা পড়ে না। ফলে কিছু ব্যক্তি সুযোগ নিয়ে বছর কয়েকের মধ্যেই অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড় গড়ে ফেলেন এবং দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বহু ব্যক্তি বিলাসবহুল বাড়ি–ঘর নির্মাণ করলেও তাদের উল্লেখযোগ্য অংশই নিয়মিত কর প্রদানের আওতায় নেই। এতে রাষ্ট্র যেমন বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি নিয়মিত করদাতারাও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
কর বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ—
নির্মাণ অনুমোদনের সময় আয়–উৎস যাচাই বাধ্যতামূলক করা।
সন্দেহজনক বিনিয়োগ শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় কর-তদন্ত ব্যবস্থা।
ব্যাংক লেনদেনে অস্বাভাবিক অর্থ প্রবাহে সতর্ক সংকেত (অ্যালার্ট) চালু।
বৈধ উৎস প্রমাণে ব্যর্থ হলে কঠোর আইন প্রয়োগ।
নাগরিক সমাজের মতে, শুধু রাজধানী নয়, উপজেলা ও মফস্বল পর্যায়ে অবৈধ অর্থের প্রবাহ রোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের দাবি, আলিশান বাড়ি নির্মাণকারীদের আয়–ব্যয়ের উৎস যথাযথভাবে যাচাই করলে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কর ফাঁকি এবং প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ উপার্জন অনেক কমে আসবে।
এক সুশীল সমাজ প্রতিনিধি বলেন,
“বাড়ি নির্মাণে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু সমস্যা তখনই, যখন আয় দেখানো হয় এক রকম, আর সম্পদ দেখে বোঝা যায় অন্য। সরকার যদি আয়–ব্যয়ের উৎস যাচাই কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক করে, তাহলে দুর্নীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
৮০ রুপায়ন টাওয়ার, লেভেল -৩ (লিফটের 3), কাকরাইল, ঢাকা 1000, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শরিফুল আলম, সহ প্রকাশক: মোঃ ফারুক হোসেন । মোবাইল: 01604 872 968
Millennium NEWS BD