সাভার প্রতিনিধি:ঢাকা জেলা উত্তর মহিলা লীগের সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক দিলশান আরা অনিমা দীর্ঘদিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তিনি রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিং—এইসব অপরাধে অনিমা ও তার সহযোগী চক্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার দুই পুত্র অন্তর চৌধুরী ও অনিক চৌধুরী, যারা সাভার পৌর ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত, তাদের মাধ্যমেও নানা অপকর্ম পরিচালিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
সম্প্রতি সাভারে এক তরুণীকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে অনিমা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলু গ্রেপ্তার হলেও, অভিযোগের মুখে থাকা দিলশান আরা অনিমা ও তার পুত্র অন্তর চৌধুরী এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছেন।
গণঅভ্যুত্থানের পরও এই বিতর্কিত মহিলা লীগ নেত্রী নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সাভারের রাজপথ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন—যা জনগণের ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রভাবশালী পরিচয়ের জোরে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাভারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠবে।
সাভারের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা দিলশান আরা অনিমা, তার পুত্র অন্তর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।


















