শাহিনুল ইসলাম লিটনঃ
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থানাধীন মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৩) এর ০২ বছরের শিশু কন্যা আয়শা আক্তার আশুরা গত ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ইং তারিখ সকালবেলা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে তার মরদেহ রাত আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকায় পাশের একটি পরিত্যাক্ত জমি উদ্ধার করা হয়। শিশু আয়েশার নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় ভিকটিমের পিতা আলমগীর হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং -০৪ তারিখ- ১৮/০৪/২০২৬।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের সম্মানিত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি,পিপিএম শিশু আয়েশার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতা উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম, পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার এর নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ও কুড়িগ্রাম ডিবি পুলিশের একটি দল গতকাল ৩০.০৪.২৬ ইং তারিখে যৌথ অভিযানে তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী মোছাঃ কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০) দ্বয়কে গ্রেফতার করে। উক্ত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।
তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম আয়শা আক্তার পাশের বাসায় আসামি কহিনুর বেগমের ছেলের সাথে খেলার সময় কলম দিয়ে চোখে আঘাত পায় এবং রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এসময় ভিকটিম চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে আসামি কহিনুর বেগম ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে এবং এর ফলে ভিকটিম নিস্তেজ হয়ে মৃত্যু বরণ করলে তাকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে রাখে। পরবর্তীতে রাত হলে ও বিদ্যুৎ চলে অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে রাখে। গ্রেফতারকৃত আসমি কহিনুর বেগম ও রাশেদুল ইসলমাম আপেলকে আজ ১ মে, ২০২৬ ইং তারিখ কুড়িগ্রাম জেলার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামি কহিনূর বেগম দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম, পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিলমারীতে শিশু হত্যার ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল দ্রুততম সময়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল ঘাতকদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ হত্যাকান্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















