মোঃ গুলজার রহমান বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
বগুড়া শহরে যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান খোকন (৩৭) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৭ জন নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শহরের সেউজগাড়ী এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত হাবিবুর রহমান খোকন শহরের মালতিনগর দক্ষিণপাড়ার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি রেন্ট-এ কারের ব্যবসার পাশাপাশি ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মামলার বাদী ফারজানা আক্তার উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন রাতে তার স্বামী খোকন বন্ধু বাঁধনকে (৩০) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সেউজগাড়ী পালপাড়া আনন্দ আশ্রমের উত্তর পার্শ্বে যান।
তারা জনৈক আব্দুল সাত্তারের বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছামাত্রই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মুন্না, সামিউল, রকি, সিয়াম, সাগর, ধলা, মেহেদীসহ এজাহারভুক্ত ১৭ জন এবং অজ্ঞাত ৭-৮ জন তাদের পথরোধ করে। আসামিদের হাতে রাম দা, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া, চাকু, লোহার রডসহ মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র ছিল।
খোকন তাদের পথরোধ করার কারণ জানতে চাইলেই আসামিরা এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এজাহার অনুযায়ী, ২নং আসামি সামিউল হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর ১নং আসামি মুন্না রাম দা দিয়ে খোকনের মাথায় আঘাত করে। এরপর অন্যান্য আসামিরাও রাম দা ও হাসুয়া দিয়ে খোকনের মাথায়, পিঠে, হাতে ও পায়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে।
প্রতিরোধের সময় খোকনের বাম হাতের অনামিকা, মধ্যমা ও কনিষ্ঠ আঙুল কেটে ঝুলে যায়। এছাড়া, গুরুতর আঘাতের ফলে তার ডান হাতের কনুইয়ের ওপরের অংশ ও বাম পায়ের গোড়ালীর ওপরের অংশ হাড়সহ কেটে চামড়ার সাথে ঝুলে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মুন্না আরও একবার মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগে বলা হয়। এসময় খোকনের বন্ধু বাঁধনও গুরুতর জখম হন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত খোকন ও বাঁধনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবুর রহমান খোকনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাঁধন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। নিহত খোকনের দাফন ও সাক্ষীদের সঙ্গে আলোচনার কারণে মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী ফারজানা আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেন।


















