(নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি)
স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর টিকিয়ে রাখা এবং আট দফা দাবি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সারা দেশের মতো নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও আজ দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন নার্স–মিডওয়াইফরা। সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে তারা অবস্থান নেন।
অংশগ্রহণকারী নার্সরা বলেন, অধিদপ্তর একীভূত করার উদ্যোগ বাতিল, নিয়োগবিধি অনুমোদন, অর্গানোগ্রাম ও ক্যারিয়ার পাথ চূড়ান্তকরণসহ আট দফা দাবি পূরণ ছাড়া তারা পিছু হটবেন না। তাঁদের দাবি, অনেক নার্স আজও এন্ট্রি গ্রেডেই অবসরে যাচ্ছেন, ফলে পেশাগত স্বীকৃতি ও পদোন্নতির পথ বন্ধ হয়ে আছে।
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার–পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল মনসুর আহমদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আন্দোলনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট থাকায় কর্মবিরতিতে রোগীসেবা ব্যাহত হতে পারে। আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
বুধবার রাজধানীতে নার্স–মিডওয়াইফদের মহাসমাবেশ শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ১৯৭৭ সাল থেকে স্বতন্ত্র কাঠামোয় পরিচালিত নার্সিং প্রশাসনকে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নার্সিং খাতের অস্তিত্ব ও স্বকীয়তার ওপর আঘাত।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে আজও নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেটআপ বা ক্যারিয়ার পাথ অনুমোদিত হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ৮৩ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশে আছে মাত্র ছয় জন। সরকারি খাতে নার্স ৪৯ হাজার, আর নিবন্ধিত নার্সের সংখ্যা এক লাখের বেশি হলেও বাস্তবে কর্মরত নার্স–মিডওয়াইফের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।
বেসরকারি খাতে নার্সদের বেতন বৈষম্য ‘ভয়াবহ’ বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। অনেক বেসরকারি হাসপাতালে নিবন্ধনবিহীন ভুয়া নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—যা রোগীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
নার্স–মিডওয়াইফরা বলেন, কোভিড–১৯, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের সময় আহতদের সেবায় নার্সদের ভূমিকা দেশ–বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু এখনো তাঁদের পেশাগত মর্যাদা, সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।
কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর স্মারকলিপি প্রদান, ২৫ নভেম্বর কালো ব্যাজ ধারণ, ২৬ নভেম্বর অবস্থান ধর্মঘট, ২৭ নভেম্বর বিক্ষোভ, ৩০ নভেম্বর প্রতীকী শাটডাউন এবং ২ ডিসেম্বর সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন পালন করা হবে।
নার্স–নেতারা জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন বিলুপ্তির কোনো আদেশ জারি হলে সারা দেশে সঙ্গে সঙ্গে ‘পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন’ পালন করা হবে।



















