ঢাকা আজ শুক্রবার, ৮ই মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ ৮ই মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অনুসন্ধান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আর্টিকেল
  8. কবিতা
  9. কৃষি
  10. খেলাধুলা
  11. গণমাধ্যম
  12. গল্প
  13. জাতীয়
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. বিনোদন

আরও পাঁচ হাজার নতুন রোহিঙ্গা কক্সবাজারে

প্রতিবেদক
দৈনিক মিলেনিয়াম নিউজবিডি
মে ৪, ২০২৫ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারে আরও ৫ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এ নিয়ে নতুন রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ১ মে পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এদের ‘নতুন রোহিঙ্গা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে আরও ১২ লাখ রোহিঙ্গা। সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল শনিবার রাতে মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, নতুনভাবে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তারা কক্সবাজারে বিভিন্ন ক্যাম্পে আছে। কেউ আবার বিদ্যালয়সহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থাপনায় আশ্রয় নিয়েছে।

নতুন রোহিঙ্গাদের আবাসস্থলের ব্যবস্থা করতে সম্প্রতি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ চিঠির জবাব দেয়নি বলে জানান মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের আবাসস্থলের ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়ে ইউএনএইচসিআরের চিঠির জবাব আমরা এখনও দিইনি। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নতুনভাবে ঘর তৈরি করে দেওয়ার মতো অবস্থায় আমরা নেই। আমরা প্রত্যাবাসনে জোর দিচ্ছি।

এদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু বুড়া শিকদাপাড়া এলাকায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। দেশটির রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির সদস্যরা এ নিপীড়ন চালাচ্ছে। এতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্বদিকে অবস্থিত শিকদারপাড়া থেকে অনেক রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত তাদের স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কেউ কেউ পালিয়ে আসছেন।

পালিয়ে আসা এমনই একজন আমির হোসেন। টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া আমির জানান, তার কিছু স্বজন এখনও শিকদাপাড়ায় বসবাস করছে। শনিবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। এদিন সকালে গ্রামে ঢুকে খোলা আকাশের দিকে গুলি চালায় আরাকান আর্মি। এর পর মাইকিং করে ঘর থেকে সবাইকে বের হতে বলে। এক পর্যায়ে একটি খালি মাঠে সবাইকে জড়ো করে। এ সময় আরসাকে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের নাম প্রকাশ করতে বলা হয়। এর ব্যত্যয় হলে সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

তিন মাস আগে পালিয়ে আসা আমির আরও জানান, রাখাইনের লডাইং, উচিংজং, নাকমুড়া, কুলি পাড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনও রোহিঙ্গাদের বসতি রয়েছে। সেখানে আরাকান আর্মি অনেকের ঘরে গিয়ে আরসার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের দিনভর রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখছে তারা। এতে সেখানকান রোহিঙ্গারা ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চেষ্টা করছে।,

আরাকান আর্মি নতুন করে মংডুতে হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের। তিনি বলেন, আরসাকে আশ্রয় দেওয়ার বাহানা করে কাল চার গ্রামে হামলা চালানো হয়েছে। মূলত সেখানে এখনও থাকা রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এ ধরনের অজুহাতে নির্যাতন চালাচ্ছে আরাকার আর্মি।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সৈকতের মুসলিমাবাদ বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে নারী-শিশুসহ ৩৫ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র‍্যাব। র‍্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে বেশ কিছু রোহিঙ্গা পতেঙ্গা ঘাট দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে–এমন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। পরে নারী-শিশুসহ ৩৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা ভাসানচর থেকে নাকি মিয়ানমার থেকে এসেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আটক রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রতিজন দুই হাজার টাকার বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে দালালের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করে। তাদের চট্টগ্রামে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি ছিল। এখান থেকে তারা কোথায় যেতে চেয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে বিজিবি টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। নাফ নদ ও স্থলপথে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। পাশাপাশি মাদক-মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

সীমান্তে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর খোঁজ রাখেন– এমন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক দিনে মিয়ানমার জান্তার বাহিনীর কাছে রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে আরাকান আর্মি। এ নিয়ে সংঘাত চলছে। আর নতুন আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ বর্তমানে কক্সবাজারে ২০টি ক্যাম্পে তাদের স্বজনের ঘরে রয়েছে।’

কমেন্ট করুন

সর্বশেষ - কৃষি

আপনার জন্য নির্বাচিত

জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝেই ডিএমপির নতুন নিষেধাজ্ঞা

লিগ্যাল চ্যানেলে শ্রমিক নিতে আগ্রহী ইতালি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নেত্রকোনায় মানব পাচারের অভিযোগে জড়িত চীনা নাগরিক আটক

ভাসানচর থেকে পালিয়ে এলো ৪০ রোহিঙ্গা

এবার বন্ধ হচ্ছে আ.লীগ-সংশ্লিষ্ট সব পেজ

ভিকটিম উদ্ধারসহ ১টি মাইক্রোবাস আটক ও অপহরণকারী গ্রেফতার ৭

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপি’র রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র মো বকুল হোসেন

ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

উলিপুরে কিশোর কিশোরী অধিকার ও সুরক্ষা মেলা অনুষ্ঠি ​শাহিনুল ইসলাম লিটনঃ কুড়িগ্রামের উলিপুরে কিশোরীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘কিশোরী অধিকার ও সুরক্ষা মেলা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উলিপুর বিজয় মঞ্চে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ‘প্রাইস’ (PRISE – Protection of Children at Risk through Socio-Economic Empowerment) প্রকল্পের উদ্যোগে দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করা হয়। ​উদ্বোধন ও অংশগ্রহণ ​মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব এটিএম আরিফ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজসেবা কর্মকর্তা, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। মেলায় বিপুল সংখ্যক কিশোরী, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, কাজী এবং শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। ​প্রধান অতিথির বক্তব্য ​প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “কিশোরীদের সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ গড়তে স্থানীয় প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। ইসলামিক রিলিফের এই আয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।” ​মেলায় কিশোরীদের অধিকার ও সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও সেবা সম্বলিত ১০টি স্টল প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সচেতনতামূলক নাটক ‘স্কুল কেন যাবে’ এবং ‘ফুল ফোটেনি’। এছাড়া বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কিশোরী ও অভিভাবকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ​ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড প্রোটেকশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দারিদ্র্য ও অসচেতনতা এ অঞ্চলে বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সংকট কাটিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন। বক্তারা পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। ​মেলার সমাপনী পর্বে উপস্থিত সকলে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং সমাজ থেকে এই অভিশাপ দূর করার বলিষ্ঠ শপথ গ্রহণ করেন। পরিশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কিশোরীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।